Excellent World, all time Online income source, health and beauty, Online job, Part time work, Digital marketing, online marketing, Affiliate Marketing, এখানে নিয়মিত স্বাস্থের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও চিকিৎসা সম্পর্কিত আলোচনা দেওয়া হয়।

Page Manu

Welcome

Latest Blog Posts

Thanks Every One

অনুসরণকারী

Translate

Health Tips for Life

সুস্থ থাকার জন্য এখানে কিছু টিপস রয়েছে: ভালো করে খান: বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, লেবু এবং বাদাম খান। অস্বাস্থ্যকর খাবার, লবণ, চিনি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট সীমিত করুন। পানি পান করুন: হাইড্রেটেড থাকার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এটি হজম, শক্তি এবং হার্টের স্বাস্থ্যের সাথে সাহায্য করতে পারে। ব্যায়াম: নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন। ভালো ঘুম: পর্যাপ্ত ভালো ঘুম পান। অ্যালকোহল সীমিত করুন: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের ফলে লিভারের রোগ এবং ক্যান্সার হতে পারে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন: স্ট্রেস পরিচালনা করার উপায় খুঁজুন। চেকআপ করুন: নিয়মিত স্বাস্থ্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পরীক্ষা, স্ক্রীনিং এবং টিকা দেওয়ার সাথে সাথে থাকুন।

১৯ মার্চ, ২০২৫

“Fasting” is a blessing for liver patients-লিভার রোগীদের জন্য“রোজা”আশীর্বাদ


ইসলামে রোজা কি ধরনের ইবাদত:-


ইসলামে রোজা শারীরিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এটি এমন একটি ইবাদত যেখানে মুসলমানরা নিয়তসহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, যৌন সম্পর্ক এবং অন্যান্য রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকে, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে।

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এটি আত্মসংযম, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম। এটি শারীরিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত, যা ব্যক্তিকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে।

লিভার রোগীর বৈশিষ্ট্য:-

লিভার রোগীর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণ নিম্নলিখিতঃ

১. শারীরিক লক্ষণ

  • ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
  • ওজন হ্রাস বা ক্ষুধামন্দা
  • পেট ফুলে যাওয়া (অ্যাসাইটিস)
  • হাত-পা ফুলে যাওয়া

২. পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা

  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • বদহজম ও ক্ষুধামন্দা
  • গাঢ় রঙের প্রস্রাব ও ফ্যাকাশে মল
  • পেটে ব্যথা, বিশেষ করে ডান দিকে

৩. চামড়া ও রক্ত সংক্রান্ত লক্ষণ

  • সহজে রক্তক্ষরণ বা আঘাতে নীলচে দাগ পড়ে যাওয়া
  • চুলকানি (লিভারের টক্সিন জমার কারণে)
  • হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া (পামার এরিথেমা)
  • শরীরে মাকড়সার মতো রক্তনালীর দাগ (স্পাইডার এনজিওমা)

৪. মানসিক পরিবর্তন

  • স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া
  • মনোযোগ কমে যাওয়া
  • বিভ্রান্তি বা ঘোর লাগা (হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি)

৫. হরমোনজনিত পরিবর্তন

  • পুরুষদের ক্ষেত্রে স্তন বড় হয়ে যাওয়া (গাইনোকোমাস্টিয়া)
  • নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক

যদি কেউ এই লক্ষণগুলো অনুভব করেন, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রোজা, লিভার রোগীদের জন্য কি ধরনের আশীর্বাদ:-

রোজা ও লিভার রোগীদের জন্য আশীর্বাদ ও উপকারিতা:

ইসলামে রোজা শুধু আত্মিক ইবাদত নয়, এটি শারীরিক সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত উপকারী। লিভার রোগীদের জন্য রোজার কিছু সম্ভাব্য আশীর্বাদ ও উপকারিতা নিম্নরূপ:

১. লিভারের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার

  • রোজা রাখার মাধ্যমে খাবার ও পানীয় গ্রহণের বিরতি ঘটে, যা লিভারকে অতিরিক্ত কাজ থেকে মুক্তি দেয়।
  • ফাস্টিং (রোজা) লিভারের ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্ত করার প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে।

২. ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণ

  • নিয়মিত রোজা রাখার ফলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমে, যা ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের ফলে লিভারের ফ্যাট মেটাবলিজম উন্নত হয়।

৩. লিভারের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

  • রোজা থাকলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে, যা নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) রোগীদের জন্য উপকারী।
  • এটি লিভারের গ্লুকোজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকে সুস্থ রাখে।

৪. প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) হ্রাস

  • লিভারের বিভিন্ন রোগ, যেমন হেপাটাইটিস ও সিরোসিস, মূলত প্রদাহজনিত সমস্যার কারণে হয়।
  • রোজা রাখলে শরীরের প্রদাহজনিত রাসায়নিক উপাদানগুলো হ্রাস পায়, যা লিভার রোগীদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।

৫. শরীরের টক্সিন দূরীকরণ

  • রোজার সময় শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিন ধীরে ধীরে বের হয়ে যায়, যা লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়।

কিন্তু সতর্কতা:

যদি কেউ গুরুতর লিভার রোগে (যেমন সিরোসিস বা হেপাটাইটিস) ভুগে থাকেন, তবে রোজা রাখার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে।

উপসংহার:

যদি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুমতি দেয়, তবে রোজা লিভার রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি শরীর ও আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

১০ মার্চ, ২০২৫

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা-Immune System


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) কী?



রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হলো শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা আমাদের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস, এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি শরীরের এমন এক জটিল প্রক্রিয়া, যা বিভিন্ন কোষ, টিস্যু ও প্রোটিনের মাধ্যমে কাজ করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ বা ধ্বংস করতে সাহায্য করে।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ধরণ

১. প্রাকৃতিক বা সহজাত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Innate Immunity)

  • জন্মগতভাবে আমাদের শরীরে থাকা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
  • এটি ত্বক, লালা, চোখের জল, পেটে অ্যাসিড ইত্যাদির মাধ্যমে কাজ করে।
  • ক্ষতিকারক জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।

২. অর্জিত বা অভিযোজিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Adaptive Immunity)

  • এটি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ে ওঠে।
  • শরীর যখন কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর সংস্পর্শে আসে বা টিকা নেয়, তখন এটি সক্রিয় হয়।
  • শরীর অ্যান্টিবডি (Antibodies) তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে একই জীবাণু আক্রমণ করলে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

৩. প্যাসিভ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Passive Immunity)

  • এটি শরীর নিজে তৈরি করে না, বরং বাইরের উৎস থেকে পাওয়া যায়।
  • যেমন: মায়ের দুধে থাকা অ্যান্টিবডি শিশুদের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি পাওয়া যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায়?

✔️ সঠিক পুষ্টিকর খাবার খাওয়া (ভিটামিন সি, ডি, জিংক, প্রোটিন)
✔️ নিয়মিত ব্যায়াম করা
✔️ পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
✔️ পর্যাপ্ত পানি পান করা
✔️ মানসিক চাপ কমানো ও মেডিটেশন করা
✔️ অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করা
✔️ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
✔️ টিকা গ্রহণ করা

সংক্ষেপে:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হল আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা আমাদের সুস্থ রাখে। এটিকে শক্তিশালী করতে হলে সঠিক জীবনযাপন জরুরি। 😊💪

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যায়াম কি কাজে আসে?

নিয়মিত ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যায়াম শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সক্রিয় করে এবং বিভিন্ন উপায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ব্যায়ামের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উপকারিতা:

রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি: ব্যায়াম করলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়, ফলে শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cells - WBC) এবং অ্যান্টিবডি শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্রুত পৌঁছাতে পারে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।

স্ট্রেস হ্রাস: মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম সক্রিয় করা: শরীরের টক্সিন ও বর্জ্য পদার্থ দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোর কার্যকারিতা বাড়ায়।

বাতাস গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো: শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। ব্যায়াম ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরকে সুস্থ রাখে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কিছু উপকারী ব্যায়াম

🧘 যোগব্যায়াম (Yoga) – শ্বাসনালী পরিষ্কার করে, মানসিক চাপ কমায়।
🏃 কার্ডিও এক্সারসাইজ (Cardio Exercise) – হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং, সাঁতার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
💪 স্ট্রেন্থ ট্রেনিং (Strength Training) – হালকা ওয়েট লিফটিং বা বডি ওয়েট ব্যায়াম যেমন স্কোয়াট, পুশ-আপ শরীরের শক্তি বাড়ায়।
🧍 স্ট্রেচিং ও ফ্লেক্সিবিলিটি ব্যায়াম – শরীর নমনীয় রাখে ও রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।
🫁 শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Breathing Exercises) – ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

👉 পরামর্শ:
ব্যায়ামের পাশাপাশি সঠিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত ঘুম, প্রচুর পানি পান, এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করাও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

>> কোন কোন বয়সে কি ধরনে ব্যায়াম করা উচিত?

বিভিন্ন বয়সে উপযুক্ত ব্যায়াম:

বয়স অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন আলাদা হওয়া উচিত, কারণ শরীরের ক্ষমতা, প্রয়োজন এবং সীমাবদ্ধতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।


🔹 শিশু ও কিশোর (৫-১৭ বছর)

হালকা থেকে মাঝারি মানের ব্যায়াম (প্রতিদিন ১ ঘণ্টা)
✔ দৌড়ানো, লাফানো, সাইকেল চালানো
✔ খেলাধুলা (ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল ইত্যাদি)
✔ যোগব্যায়াম
✔ স্কিপিং (দড়ি লাফ)

🔸 কেন প্রয়োজন?

  • শরীরের গঠন ও হাড় শক্তিশালী হয়
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে
  • মানসিক বিকাশ ও মনোযোগ বাড়ে

🔹 তরুণ ও যুবক (১৮-৩৫ বছর)

মাঝারি থেকে উচ্চ-স্তরের ব্যায়াম (সপ্তাহে অন্তত ৪-৫ দিন, ৩০-৬০ মিনিট)
✔ কার্ডিও ব্যায়াম (দৌড়ানো, সাঁতার, সাইকেল চালানো)
✔ ওয়েট লিফটিং ও স্ট্রেন্থ ট্রেনিং
✔ যোগব্যায়াম ও ফ্লেক্সিবিলিটি ব্যায়াম
✔ ব্যায়ামাগারে (Gym) কসরত

🔸 কেন প্রয়োজন?

  • পেশি ও হাড়ের শক্তি বাড়ে
  • স্ট্রেস কমে
  • হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে

🔹 মধ্য বয়সী (৩৬-৫০ বছর)

মাঝারি মানের ব্যায়াম (সপ্তাহে অন্তত ৪ দিন, ৩০-৪৫ মিনিট)
✔ হালকা দৌড়ানো বা হাঁটা
✔ যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
✔ সাইকেল চালানো
✔ হালকা ওয়েট ট্রেনিং

🔸 কেন প্রয়োজন?

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে
  • উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে
  • মানসিক চাপ কমায়

🔹 প্রবীণ (৫০+ বছর)

হালকা ব্যায়াম (প্রতিদিন ৩০ মিনিট)
✔ ধীরগতির হাঁটা
✔ লাইট স্ট্রেচিং
✔ ব্রিদিং এক্সারসাইজ
✔ পানিতে ব্যায়াম (Water Aerobics)

🔸 কেন প্রয়োজন?

  • জয়েন্টের ব্যথা কমায়
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
  • শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা বাড়ায়

⚡ বিশেষ পরামর্শ:

✔ ব্যায়াম শুরুর আগে ওয়ার্ম-আপ এবং শেষে কুল-ডাউন করা জরুরি
✔ বয়স ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যায়াম বেছে নেওয়া উচিত
✔ স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো

তুমি যদি নির্দিষ্ট কোনো বয়স বা অবস্থা অনুযায়ী ব্যায়ামের বিস্তারিত জানতে চাও, বলতে পারো! 😊💪

উপসংহার:

ব্যায়াম একটি সুস্থ ও সুখী জীবনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মানসিক চাপ কমায় এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শক্তি ও উদ্দীপনা যোগায়। বয়স অনুযায়ী সঠিক ব্যায়াম বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে শরীরের ওপর অপ্রত্যাশিত চাপ না পড়ে। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলেই আমরা দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে পারব। সুতরাং, সুস্থ জীবন পেতে আজ থেকেই ব্যায়ামকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। 💪😊

১৯ ফেব, ২০২৫

ফিজিওথেরাপি-Physiotherapy


কোমর ব্যথায় অপারেশন বিহীন চিকিৎসা



গবেষকদের মতে বর্তমানে পৃথিবীতে কোমর ব্যথা মহামারী আকার ধারণ করেছে প্রতি বছর এটি দ্বিগুণ হারে বাড়ছে গবেষণা দেখা গেছে প্রায় আশীর্বাদ লোক ও সময়ে কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন কোমর ব্যথা হওয়ার কথা অনেক কারণ আছে ।যেমন মেকানিক্যাল ৭০% জেনারেশন ১০% এর অসুবিধার জন্য ৪% অস্টিওপোসিস ৪ % ফাইনালসিস ৩ %, স্পন্ডিলোলিসেথেসিস ২% এবং অন্যান্য কারণ এর জন্য ৭ %। 

কোমর ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত কারণের ওপর নির্ভর করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথা কমানো সম্ভব। নিচে অপারেশনবিহীন কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি দেওয়া হলো—


✅ অপারেশন ছাড়া কোমর ব্যথার চিকিৎসা:

1️⃣ লাইফস্টাইল ও দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তন

সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও দাঁড়ানো
✔ ভারী কিছু তোলার সময় কোমর বাঁকানোর বদলে হাঁটু ভাঁজ করা
✔ দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থাকা

2️⃣ ব্যায়াম ও শারীরিক থেরাপি (Physiotherapy)

🏋️‍♂️ ফিজিওথেরাপি:

  • হালকা স্ট্রেচিং ও ব্যাক এক্সারসাইজ ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • পেশি শক্তিশালী করে কোমরের উপর চাপ কমায়।
  • বিশেষজ্ঞের পরামর্শে করতে হবে।

🧘‍♂️ যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং:

  • "ক্যাট-কাউ পোজ," "চাইল্ড পোজ," এবং "কোবরা স্ট্রেচ" উপকারী।
  • রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা কমায়।

3️⃣ ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি

💊 পেইন রিলিফ ওষুধ:

  • সাধারণ ব্যথানাশক (প্যারাসিটামল, আইবুপ্রোফেন)
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথার ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

💆‍♂️ ম্যাসাজ থেরাপি:

  • হালকা ম্যাসাজ রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা কমায়।
  • ঘরোয়া গরম বা ঠান্ডা সেঁকও উপকারী।

🔋 TENS থেরাপি (Transcutaneous Electrical Nerve Stimulation):

  • বিদ্যুতের হালকা স্পন্দন ব্যবহার করে ব্যথা কমানোর আধুনিক পদ্ধতি।

4️⃣ গরম ও ঠান্ডা সেঁক (Hot & Cold Therapy)

🔥 গরম পানির ব্যাগ বা হিট প্যাড:

  • পেশির খিঁচুনি ও স্টিফনেস কমাতে সাহায্য করে।
    বরফ সেঁক:
  • হাড় ও স্নায়ুর ব্যথা কমাতে কার্যকর।

5️⃣ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

🥦 ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার:

  • দুধ, ডিম, মাছ, পালং শাক, বাদাম
    💧 পর্যাপ্ত পানি পান:
  • মেরুদণ্ডের ডিস্কের নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

6️⃣ আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

  • কিছু ভেষজ ওষুধ এবং তেল মালিশ ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • তবে এগুলো ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

🚨 কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি?

❌ ব্যথা ৩ মাসের বেশি স্থায়ী হলে
❌ পা অবশ হয়ে গেলে বা দুর্বল মনে হলে
❌ প্রস্রাব বা মলত্যাগে সমস্যা হলে
❌ দুর্ঘটনার কারণে ব্যথা শুরু হলে

কোমর ব্যথায় সঠিকভাবে ঘুমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল ঘুমের ভঙ্গি ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। নিচে সঠিক ঘুমের ভঙ্গি ও টিপস দেওয়া হলো—


✅ কোমর ব্যথার রোগীর জন্য সঠিক ঘুমের ভঙ্গি:

1️⃣ চিত হয়ে (পিঠের ওপর) ঘুমানো – সবচেয়ে ভালো ভঙ্গি

কোমরের স্বাভাবিক বাঁক ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
হাঁটুর নিচে একটি বালিশ রাখলে চাপ কমবে।

👉 কিভাবে করবেন?

  • সমতল বিছানায় শুয়ে পড়ুন।
  • হাঁটুর নিচে একটি বালিশ দিন (এটি কোমরের চাপ কমায়)।
  • ঘাড়ের জন্য সমর্থনযুক্ত বালিশ ব্যবহার করুন।

2️⃣ কাত হয়ে (পার্শ্বভঙ্গি) ঘুমানো

ডান বা বাম পাশে কাত হয়ে শুলেও কোমরে কম চাপ পড়ে।
হাঁটুর মাঝে একটি বালিশ রাখলে ভারসাম্য বজায় থাকবে।

👉 কিভাবে করবেন?

  • একপাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়ুন।
  • হাঁটুর মাঝখানে একটা মাঝারি সাইজের বালিশ রাখুন।
  • মেরুদণ্ড সোজা রাখার চেষ্টা করুন।

🚫 একপাশে বেশি মোচড়ানো অবস্থায় বা বাঁকা হয়ে শোয়া উচিত নয়।


3️⃣ উপুড় হয়ে শোয়া এড়িয়ে চলুন!

উপুড় হয়ে শোয়া (পেটের ওপর) কোমরের জন্য ক্ষতিকর।
এতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক কাঠামো নষ্ট হয় ও ব্যথা বাড়তে পারে।
শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে এবং ঘাড় ও কোমরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

যদি উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস ছাড়তে না পারেন, তাহলে...
✅ কোমরের নিচে একটা বালিশ দিন, যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
✅ পাতলা বালিশ বা নরম কুশন ব্যবহার করুন, যেন ঘাড় বেশি উঁচু না হয়।


🛏️ সঠিক বিছানা ও বালিশ নির্বাচন:

✔ মাঝারি-নরম বা অল্প শক্ত গদি ব্যবহার করুন (খুব বেশি নরম হলে কোমরে চাপ পড়ে)।
✔ ঘাড়ের জন্য আরামদায়ক ও সমর্থনযুক্ত বালিশ নিন।
✔ মেমরি ফোম বা অর্থোপেডিক ম্যাট্রেস ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।


🔹 অতিরিক্ত টিপস:

ঘুমানোর আগে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করুন।
শোয়ার আগে গরম সেঁক নিলে ব্যথা কমবে।
একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে প্রতিদিন ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

কোমর ব্যথা এড়াতে বা কমাতে দীর্ঘ সময় বসে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ৩০-৪৫ মিনিট বসার পর ২-৫ মিনিট দাঁড়িয়ে হাঁটার বা স্ট্রেচিং করার পরামর্শ দেন


💡 আদর্শ নিয়ম:

🕒 প্রতি ৩০-৪৫ মিনিট পর
✅ দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ হাঁটুন বা স্ট্রেচিং করুন (১-২ মিনিট)।
✅ কোমর বাঁকানো এড়িয়ে চলুন।
✅ লম্বা সময় বসে থাকলে মাঝে মাঝে চেয়ার থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ান।


🚶‍♂️কেন বারবার দাঁড়ানো দরকার?

✔ দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
✔ রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে কোমর ব্যথা বাড়তে পারে।
✔ মাঝে মাঝে দাঁড়ালে ও নড়াচড়া করলে পেশি ও জয়েন্ট নমনীয় থাকে।


📌 বসার সময় করণীয়:

সঠিক ভঙ্গিতে বসুন – পিঠ সোজা রাখুন, চেয়ার ও কোমরের মাঝে সমর্থন দিন।
চেয়ারে সাপোর্ট ব্যবহার করুন – লোয়ার ব্যাকের জন্য ছোট বালিশ বা লাম্বার সাপোর্ট ব্যবহার করুন।
পা মাটিতে রাখুন – পা ঝুলে থাকলে ব্যথা বাড়তে পারে, তাই মাটিতে সমানভাবে রাখুন।
ল্যাপটপ বা ডেস্ক ঠিক উচ্চতায় রাখুন – সামনে ঝুঁকে না বসে, স্ক্রিন চোখের সমতলে রাখুন।


🚨 যদি বেশি সময় বসে থাকতে হয়?

🔹 প্রতি ৩০ মিনিট পর টাইমার সেট করুন, যেন উঠে দাঁড়াতে মনে থাকে।
🔹 স্ট্যান্ডিং ডেস্ক ব্যবহার করুন (যদি সম্ভব হয়)।
🔹 কোমর ও পিঠের ব্যথা কমানোর জন্য মাঝেমধ্যে হালকা স্ট্রেচিং করুন

আপনার কি বসার সময় কোমর ব্যথা হয়? নাকি বেশি সময় বসে থাকতে হয়? 😊

>> খেলাধুলা করার ক্ষেত্রে কি ধরনের সর্তকতা করা উচিত?

কোমর ব্যথা থাকলে খেলাধুলা বা ব্যায়ামের সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ব্যথা না বাড়ে এবং ইনজুরি এড়ানো যায়।


✅ খেলাধুলা করার সময় করণীয় সতর্কতা:

1️⃣ উপযুক্ত ওয়ার্ম-আপ করুন

🏃‍♂️ খেলাধুলা বা ব্যায়ামের আগে অন্তত ৫-১০ মিনিট হালকা ওয়ার্ম-আপ করুন (যেমন: হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং)।
❌ সরাসরি ভারী ব্যায়াম বা দৌড়ানো শুরু করবেন না।

2️⃣ হালকা ও স্বল্প-প্রভাবযুক্ত (Low-Impact) ব্যায়াম করুন

যেসব খেলা বা ব্যায়াম কোমরের জন্য নিরাপদ:

  • সাঁতার (Swimming) 🏊‍♂️
  • সাইক্লিং 🚴‍♂️
  • হাঁটা 🚶‍♂️
  • যোগব্যায়াম 🧘‍♂️
  • পিলাটেস (Pilates)

যেসব খেলাধুলা বা ব্যায়াম এড়িয়ে চলা ভালো:

  • ভারী ওজন তোলা (Weightlifting)
  • দীর্ঘ সময় দৌড়ানো বা লাফানো
  • ফুটবল বা বাস্কেটবল (যেখানে হঠাৎ দৌড়ানো বা বাঁকানো লাগে)
  • অতিরিক্ত মোচড়ানো বা বাঁকানো লাগে এমন ব্যায়াম

3️⃣ ব্যাক সাপোর্ট বা কোমরের বেল্ট ব্যবহার করুন

✔ যদি খেলাধুলার সময় অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তাহলে লোয়ার ব্যাক সাপোর্ট বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন।
✔ এতে কোমরের অতিরিক্ত ঝাঁকুনি ও চাপে ইনজুরি কম হয়।

4️⃣ অতিরিক্ত চাপ বা ব্যথা অনুভব করলে থেমে যান

🚨 যদি খেলার সময় হঠাৎ ব্যথা বেড়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে বিরতি নিন।
🚫 "No pain, no gain" ধারণা অনুসরণ করবেন না।
✅ ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ান।

5️⃣ সঠিক জুতা ও সরঞ্জাম ব্যবহার করুন

👟 সঠিক স্পোর্টস জুতা পরুন – কোমরে কম চাপ পড়ে এমন জুতা ব্যবহার করুন।
🛡️ নিরাপত্তা গিয়ার পরিধান করুন – ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিংয়ের সময় সুরক্ষিত পোশাক পরা জরুরি।

6️⃣ সঠিক ভঙ্গিতে খেলাধুলা করুন

✅ যদি ব্যায়াম বা খেলাধুলার সময় সঠিক ভঙ্গি না হয়, তাহলে ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
✅ কোচ বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

7️⃣ খেলার পরে কুল-ডাউন (Cool Down) করুন

🏃‍♂️ খেলাধুলার পর হঠাৎ বসে পড়বেন না
🧘‍♂️ হালকা স্ট্রেচিং বা শিথিল ব্যায়াম করুন (যেমন: কোমরের স্ট্রেচ, ডিপ ব্রেথিং)।


🚨 কখন খেলা বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

❌ ব্যথা ২-৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।
❌ খেলাধুলার সময় পা অবশ লাগলে বা দুর্বল মনে হলে।
❌ হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে।

>> খাদ্য তালিকায় কি থাকা দরকার ?

কোমর ব্যথা কমাতে এবং হাড় ও পেশি শক্তিশালী রাখতে পুষ্টিকর খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


✅ খাদ্য তালিকায় যা থাকা দরকার:

1️⃣ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (হাড়ের জন্য জরুরি) 🦴

✔ দুধ, দই, ছানা 🥛
✔ ছোট মাছ (যেমন: ইলিশ, কাঁচকি, মলা) 🐟
✔ শাকসবজি (পালং শাক, মেথি শাক) 🥬
✔ বাদাম (আখরোট, আমন্ড, তিল) 🌰

2️⃣ ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার (ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়ক) ☀

✔ সূর্যের আলো (প্রাকৃতিক উৎস) ☀
✔ ডিমের কুসুম 🥚
✔ চর্বিযুক্ত মাছ (সামন, টুনা) 🐟
✔ মাশরুম 🍄

3️⃣ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে) 🐟

✔ সামুদ্রিক মাছ (স্যালমন, টুনা, সার্ডিন) 🐠
✔ আখরোট, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড 🌰

4️⃣ ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (পেশির জন্য ভালো) 💪

✔ কলা 🍌
✔ বাদাম ও বীজ (কাজু, সানফ্লাওয়ার সিড) 🌻
✔ ব্রোকোলি, পালং শাক 🥦
✔ ডাল ও শিমের বিচি 🥜

5️⃣ ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার (প্রদাহ কমায়) 🌿

✔ রঙিন ফল ও সবজি (কমলা, বেরি, টমেটো) 🍊🍓🍅
✔ সবুজ চা 🍵
✔ হলুদ (কর্কুমিন উপাদান ব্যথা কমায়)

6️⃣ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার (পেশি ও টিস্যু পুনর্গঠনে সাহায্য করে) 🍗

✔ মুরগির মাংস 🍗
✔ ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি 🥣
✔ ডিম 🥚


🚫 যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত:

❌ অতিরিক্ত লবণ ও চিনি
❌ প্রসেসড ফুড (ফাস্ট ফুড, সফট ড্রিংক)
❌ অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা, কফি)
❌ অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার

আপনার খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে এগুলো কতটা মেলে?

সুতরাং নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন এবং কোমর ব্যথা কষ্ট থেকে মুক্ত থাকুন। 

  • প্রফেসর ড. আলতাফ হোসেন সরকার
  • মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজঅর্ডারস বিশেষজ্ঞ
  • লেজার ফিজিওথেরাপি সেন্টার
  • ৪৪/৮, পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা।  


আপনার ব্যথার ধরন কেমন? দীর্ঘদিন ধরে 

অটিজম (Autism)


অটিজম কাকে বলে?

অটিজম (Autism) হলো একটি স্নায়ুবিক এবং বিকাশজনিত বৈচিত্র্য, যা একজন ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগ, আচরণ, এবং চিন্তাভাবনার ধরনকে প্রভাবিত করে। এটি সাধারণত শৈশবকালেই প্রকাশ পায় এবং আজীবন স্থায়ী হতে পারে।


অটিজমের কিছু বৈশিষ্ট্য:

  1. সামাজিক যোগাযোগে চ্যালেঞ্জ – চোখে চোখ রেখে কথা বলা, শরীরী ভাষা বোঝা বা সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করা কঠিন হতে পারে।
  2. পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ – একই কাজ বারবার করা, নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা, বা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ থাকা।
  3. সংবেদনশীলতা – আলো, শব্দ, স্পর্শ বা স্বাদের প্রতি বেশি সংবেদনশীলতা থাকতে পারে।
  4. ভাষা ও যোগাযোগের পার্থক্য – কিছু ব্যক্তি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারে না, আবার কেউ কেউ খুবই উন্নত ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন হতে পারে।

অটিজমের কারণ:

অটিজমের নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে এটি জেনেটিক ও পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণের ফলে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

অটিজম কি নিরাময়যোগ্য?

অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি একটি স্নায়ুবিক পার্থক্য। তবে থেরাপি, বিশেষ শিক্ষার পদ্ধতি, এবং পরিবার ও সমাজের সহায়তায় একজন অটিস্টিক ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপনে অনেক উন্নতি করতে পারে। অটিজমের জন্য জিএফ সিএফ ডায়েট সম্পর্কে শুনে থাকতে পারেন এই ডায়েটের প্রচলন বিগত কয়েক বছর ধরে চলছে এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে অনেকেরই ভিন্ন মতামত রয়েছে কেউ কেউ এটিকে একটি ফ্যাট ডায়েট বলে আখ্যা দিয়েছেন আবার কেউ কেউ এর কার্যকারীদের উল্লেখ করেছেন যদিও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায় তুলনামূলকভাবে সীমিত সেখানে অটিজম শিশুদের ক্ষেত্রে এর উপকারিতা দেখানো হয়েছে অনেক অটিজম আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মা রিপোর্ট করেন যে এটি আচরণ ঘুম এবং কথাবার্তা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।

গ্লুটেন মুক্ত ও ক্লোজিন মুক্ত খাবার gfcf টাইটেল নামে পরিচিত এটি অটিজমের আক্রান্ত শিশুদের জন্য বেশ কয়েকটি বিকল্প চিকিৎসার মধ্যে একটি এই কঠোর আয়ত অনুসরণ করার সময় অটিজম শিশুদের প্রতিদিনের খাদ্যগ্রহণ থেকে প্রোটিন প্রোটিন অর্থাৎ গমেরা টা ময়দার তৈরি খাবার নিতে পাওয়া যায় এবং কেজিন প্রোটিন দুধ ও দ্রুতযানকারী সমস্ত খাবার বাদ দেওয়া হয়। এই ডায়েটের পিছনে চিন্তা হলো যে এটি দুটি প্রোটিন রুটিন ও কেজিং যুক্ত খাবার বাদ দেওয়া যা অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষভাবে সমবেদনশীল হতে পারে এই প্রোটিন গুলো হজম করা কঠিন এবং টিনের ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে অন্তরের ক্ষতি করতে পারে যখন অন্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন প্রোটিনের ছোট অংশ রক্ত প্রবাহে প্রকাশ করে এবং মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে যা অটিজম শিশুদের সাথে আমরা প্রায়ই দেখতে পাই। 

** দেখে নেয়া যাক গ্লুটেন মুক্ত এবং কেজির মুক্ত ডায়েটে আপনার শিশু কি খাবার উপভোগ করতে পারে-

>> চাল, লাল, চাল, মুড়ি, চিড়া, সাগু, চালের আটা সব ধরনের ডাল ছোলা বাদাম কাঠবাদাম দুধ নারিকেল দুধ কাজু দুধ চালের দুধ অটোস দুধ সব ধরনের সাঁক ও সবজি সব ধরনের মৌসুমী ফল মাছ মুরগি সামুদ্রিক মাছ কবুতর ডিম পানি লেবুর পানি ডাবের পানি অল্প পরিমাণ মাংস মাছ মুরগি সামুদ্রিক মাছ কবুতর ডিম পানি লেবুর পানি ডাবের পানি অল্প পরিমাণে গরুর মাংস কলিজা মগজ খাসি কি লবণ

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে (ASD) আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সংবেদনশীল ও সহমর্মী আচরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কিছুই আছে যা অটিস্টিক ব্যক্তিদের জন্য কঠিন বা অস্বস্তিকর হতে পারে। নিচে কিছু বিষয় দেওয়া হলো, যা অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উচিত নয়:

🚫 যা করা উচিত নয়:

1️⃣ বলপ্রয়োগ বা বাধ্য করা – অটিস্টিক ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সামাজিক আচরণ, চোখে চোখ রেখে কথা বলা, বা প্রচলিত নিয়মে চলতে বাধ্য করা উচিত নয়। তারা ভিন্নভাবে যোগাযোগ করতে পারে, যা সম্মান করা জরুরি।

2️⃣ অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন চাপানো – হঠাৎ করে রুটিন বা পরিবেশ পরিবর্তন করলে তারা অস্বস্তি বা উদ্বেগে ভুগতে পারে। পরিবর্তন আনতে হলে ধাপে ধাপে এবং তাদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য সময় দিতে হবে।

3️⃣ তাদের অনুভূতিকে ছোট করে দেখা – অনেকে সংবেদনশীল আলো, শব্দ, বা স্পর্শের প্রতি অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এটি উপেক্ষা করা বা "অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া" বলাটা উচিত নয়।

4️⃣ সাধারণ শিশুদের সাথে তুলনা করা – অটিস্টিক শিশুদের সাধারণ শিশুদের সাথে তুলনা করা উচিত নয়। তাদের বিকাশের নিজস্ব গতি রয়েছে, যা সম্মান করা দরকার।

5️⃣ তাদের মতামত বা আগ্রহকে অবহেলা করা – অনেক অটিস্টিক ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে গভীর আগ্রহ রাখে। এটি "অস্বাভাবিক" বলে অবহেলা না করে, বরং তাদের এই আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো উচিত।

6️⃣ তাদের 'সুধরানোর' চেষ্টা করা – অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি স্নায়ুবিক পার্থক্য। তাই তাদেরকে জোর করে "সাধারণ" বানানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।

7️⃣ তাদের সম্পর্কে ভুল ধারণা রাখা – অনেকেই মনে করেন যে, অটিস্টিক ব্যক্তিরা অনুভূতিশূন্য বা বন্ধুত্ব করতে চায় না। কিন্তু বাস্তবে, তারা অনুভূতিপ্রবণ এবং বন্ধুত্ব করতে চায়, যদিও তাদের প্রকাশের ধরন আলাদা হতে পারে।

✅ কী করা উচিত?

👉 তাদের মতামত ও অনুভূতিকে সম্মান করা
👉 সংবেদনশীলতা ও সহমর্মিতা দেখানো
👉 ধৈর্য ধরে তাদের সাথে যোগাযোগ করা
👉 তাদের আগ্রহ ও শক্তিকে কাজে লাগানো

অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো "নিষিদ্ধ" খাবার নেই, তবে কিছু খাবার তাদের উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে বা সংবেদনশীলতা ও আচরণগত চ্যালেঞ্জের কারণ হতে পারে। প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে, তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

🚫 যে খাবারগুলি এড়িয়ে চলা ভালো:

1️⃣ 🧂 প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্ট ফুড

  • চিপস, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, কোল্ড ড্রিংকস
  • এগুলোতে উচ্চমাত্রার চিনি, লবণ ও সংরক্ষণকারী থাকে, যা আচরণগত সমস্যা ও হাইপারঅ্যাক্টিভিটি বাড়াতে পারে।

2️⃣ 🍭 অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম মিষ্টি

  • ক্যান্ডি, সফট ড্রিংক, মিষ্টি সিরিয়াল, প্যাকেটজাত জুস
  • এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে ও কমিয়ে দিতে পারে, যা মুড সুইং, উত্তেজনা বা অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

3️⃣ 🧀 দুগ্ধজাত খাবার (কিছু ক্ষেত্রে)

  • গরুর দুধ, পনির, মাখন, আইসক্রিম
  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু অটিস্টিক ব্যক্তির শরীর কেসিন (দুধের প্রোটিন) ভালোভাবে হজম করতে পারে না, যা পেটের সমস্যা বা আচরণগত পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

4️⃣ 🌾 গ্লুটেনসমৃদ্ধ খাবার (কিছু ক্ষেত্রে)

  • গম, বার্লি, রুটি, পাস্তা, বিস্কুট
  • কিছু অটিস্টিক ব্যক্তির জন্য গ্লুটেন (গমের প্রোটিন) হজম করা কঠিন হতে পারে, যা অন্ত্রের সমস্যা বা মনোযোগের ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে।

5️⃣ 🧃 কৃত্রিম রং ও সংরক্ষণকারীযুক্ত খাবার

  • ক্যান্ডি, সোডা, জেলি, প্রসেসড সস
  • কিছু গবেষণা বলছে, কৃত্রিম রঙ ও সংরক্ষণকারী উপাদান শিশুদের হাইপারঅ্যাক্টিভ ও অস্থির করতে পারে।

6️⃣ 🍟 ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার

  • ভাজাপোড়া খাবার, মার্জারিন, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস
  • এগুলো মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মনোযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

✅ যে খাবারগুলি উপকারী হতে পারে:

ফলমূল ও শাকসবজি – ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ, যা মস্তিষ্কের জন্য ভালো
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার – মাছ, চিয়া সিড, আখরোট (মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়)
প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার – বাদাম, বীজ, ডাল, ব্রাউন রাইস (শক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়)

অটিস্টিক ব্যক্তির জন্য খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হয়, কারণ প্রতিটি ব্যক্তির সংবেদনশীলতা আলাদা।


  •  আয়েশা মোস্তফা ( বুশরা )
  • বিএসসি (অনার্স), এমএসসি, (খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান) 
  • পিজিটি-ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন এন্ড ডায়টেটিক্স(বারডেম) 
  • চেম্বার: ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। 
  • ১/১-বি কল্যাণপুর, ঢাকা- ১২১৬


অস্টিওপোরোসিস কি-What is osteoporosis


অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis) হলো একটি হাড়ের রোগ, যেখানে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং এটি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এটি সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে মেনোপজের পর।


অস্টিওপোরোসিসের কারণ:

✅ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাব
✅ বয়স বৃদ্ধি
✅ জেনেটিক (পারিবারিক ইতিহাস)
✅ হরমোনের পরিবর্তন (বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন কমে গেলে)
✅ ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন
✅ দীর্ঘ সময় ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ

লক্ষণসমূহ:

🔸 হাড় দুর্বল হয়ে সহজে ভেঙে যাওয়া (বিশেষ করে মেরুদণ্ড, কোমর ও কবজির হাড়)
🔸 উচ্চতা কমে যাওয়া
🔸 পিঠে বা কোমরে ব্যথা
🔸 সহজেই কুঁজো হয়ে যাওয়া

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:

✅ পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ
✅ নিয়মিত ব্যায়াম (ওজন বহনকারী ব্যায়াম যেমন হাঁটা, দৌড়ানো)
✅ ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
✅ প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ

অস্টিওপোরোসিস সাধারণত তখন হয় যখন হাড়ের গঠন ও ক্ষয়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের শরীর সারাজীবন নতুন হাড় তৈরি করে এবং পুরোনো হাড় ক্ষয় হয়। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে নতুন হাড় তৈরির গতি ধীর হয়ে যায়, আর পুরোনো হাড় দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে, যার ফলে অস্টিওপোরোসিস দেখা দেয়।

অস্টিওপোরোসিসের প্রধান কারণসমূহ:

🦴 ১. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাব

  • হাড় শক্তিশালী রাখতে ক্যালসিয়ামভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ।
  • যদি খাদ্যে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি না থাকে, তাহলে হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং দ্রুত ক্ষয় হয়।

🦴 ২. বয়স বৃদ্ধির প্রভাব

  • বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের গঠন দুর্বল হয়ে যায়।
  • বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

🦴 ৩. হরমোন পরিবর্তন

  • নারীদের মধ্যে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যা হাড়ের ক্ষয়কে দ্রুততর করে।
  • পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে হাড় দুর্বল হতে পারে।

🦴 ৪. পারিবারিক ইতিহাস (জেনেটিক ফ্যাক্টর)

  • যদি পরিবারের কারও অস্টিওপোরোসিস থাকে, তাহলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

🦴 ৫. জীবনধারা ও অভ্যাস

  • অসন্তুলিত খাদ্যাভ্যাস – ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের ঘাটতি হাড় দুর্বল করে।
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ – এটি হাড়ের ঘনত্ব কমায়।
  • অল্প পরিমাণ শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করা – ওজন বহনকারী ব্যায়াম (যেমন হাঁটা, দৌড়ানো, স্কিপিং) না করলে হাড় দুর্বল হয়ে যায়।

🦴 ৬. কিছু ওষুধ ও রোগের প্রভাব

  • স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করলে হাড় দুর্বল হয়।
  • থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হাড়ের ক্ষয় বাড়াতে পারে।
  • অন্য কিছু রোগ যেমন ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা আন্ত্রিক সমস্যা থাকলে হাড়ের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

❗ কীভাবে অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করা যায়?

✅ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ (দুধ, দই, মাছ, ডিম)
✅ নিয়মিত ব্যায়াম (ওজন বহনকারী ব্যায়াম)
✅ ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
✅ প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ

অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকিতে কারা বেশি থাকেন? 🦴⚠️

কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও জীবনযাত্রার কারণের জন্য অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেশি থাকে। নিচে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা দেওয়া হলো:

১. বয়স্ক ব্যক্তিরা 🏃‍♂️➡️👴👵

  • বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে।
  • ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
  • ৬৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদেরও ঝুঁকি থাকে।

২. নারীরা 👩‍🦳

  • মেনোপজের পর নারীদের মধ্যে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়, যা হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত কমিয়ে দেয়।
  • পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেশি

৩. পারিবারিক ইতিহাস (জেনেটিক ফ্যাক্টর) 🧬

  • যদি পরিবারে মা, বাবা বা ভাইবোনদের মধ্যে কেউ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে ঝুঁকি বেশি থাকে।

৪. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা 🧪

  • ইস্ট্রোজেন (নারী) ও টেস্টোস্টেরন (পুরুষ) হরমোন কমে গেলে হাড় দুর্বল হয়।
  • থাইরয়েড হরমোন বেশি থাকলে হাড় দ্রুত ক্ষয় হয়।

৫. খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির ঘাটতি 🥛🥦

  • কম ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে হাড় শক্তি হারায়।
  • অল্প পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করলে হাড় দুর্বল হতে পারে।

৬. জীবনধারা ও অভ্যাস 🚬🍻

  • ধূমপান হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়।
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • ব্যায়ামের অভাব – ওজন বহনকারী ব্যায়াম (যেমন হাঁটা, দৌড়ানো) না করলে হাড় দুর্বল হয়।

৭. কিছু ওষুধ ও রোগ 💊

  • দীর্ঘ সময় স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ (যেমন কোর্টিকোস্টেরয়েড) গ্রহণ করলে হাড় ক্ষয় হতে পারে।
  • অ্যান্টি-ডিপ্রেশন ওষুধ, কিডনি বা গ্যাস্ট্রিকের কিছু ওষুধ হাড় দুর্বল করতে পারে।
  • ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা, লিভারের রোগ বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বেশি হয়।

❗ ঝুঁকি কমাতে কী করা যায়?

✅ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খান (দুধ, দই, মাছ, ডিম)
✅ নিয়মিত ব্যায়াম করুন (ওজন বহনকারী ব্যায়াম)
✅ ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন
✅ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ওষুধ গ্রহণ করুন

অস্টিওপোরোসিস হলে কী হয়? 🦴⚠️

অস্টিওপোরোসিস হলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়, ফলে এটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। এটি সাধারণত কোমর, মেরুদণ্ড (স্পাইন) ও কবজির হাড়ে বেশি প্রভাব ফেলে

🛑 অস্টিওপোরোসিসের প্রধান লক্ষণ ও সমস্যা:

১. হাড় দুর্বল হয়ে সহজে ভেঙে যায় 🦴❌

  • হালকা আঘাতেই হাড় ভেঙে যেতে পারে (বিশেষ করে কোমর, কবজি ও মেরুদণ্ড)।
  • কখনো কখনো হাঁচি বা সামান্য ধাক্কায়ও হাড় ভেঙে যেতে পারে

2. পিঠ ও কোমরে ব্যথা 😖

  • মেরুদণ্ডের হাড় দুর্বল হলে ব্যথা হতে পারে।
  • অনেক সময় হাড় সংকুচিত হয়ে ফ্র্যাকচার (ভেঙে যাওয়া) হতে পারে, যা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার কারণ হয়।

3. উচ্চতা কমে যাওয়া 📉

  • মেরুদণ্ডের হাড় সংকুচিত হয়ে গেলে উচ্চতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে
  • এটি বিশেষত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

4. কুঁজো হয়ে যাওয়া বা শারীরিক গঠন পরিবর্তন 🤕

  • হাড় দুর্বল হয়ে গেলে মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যেতে পারে, যা কুঁজো হয়ে যাওয়ার (hunched posture) কারণ হতে পারে
  • এটি ব্যালান্স নষ্ট করে দেয়, ফলে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

5. সহজে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া ⚠️

  • হাড় ভঙ্গুর হওয়ার কারণে ছোটখাটো পড়ে যাওয়াতেও হাড় ভেঙে যেতে পারে
  • বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে, যা চলাচলের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

❗ দীর্ঘমেয়াদে অস্টিওপোরোসিসের প্রভাব:

🔴 চলাফেরায় অসুবিধা হয়, যা জীবনের গুণগত মান কমিয়ে দেয়
🔴 হাড় ভাঙলে অপারেশন বা দীর্ঘ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে
🔴 অনেক ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী ব্যথা ও দুর্বলতা থেকে যেতে পারে

✅ প্রতিরোধ ও করণীয়:

✔ পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন।
✔ নিয়মিত ব্যায়াম করুন (ওজন বহনকারী ব্যায়াম যেমন হাঁটা, জগিং)
ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
✔ যদি ঝুঁকি বেশি থাকে, তাহলে নিয়মিত হাড়ের পরীক্ষা (Bone Density Test) করুন

অস্টিওপোরোসিস নির্ণয়ের জন্য কোন পরীক্ষা করা হয়? 🦴🔬

অস্টিওপোরোসিস শনাক্ত করতে Bone Mineral Density (BMD) Test সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। এটি হাড়ের ঘনত্ব পরিমাপ করে এবং বুঝতে সাহায্য করে যে আপনার হাড় ভাঙার ঝুঁকি কতটা বেশি।


🩺 ১. ডেক্সা স্ক্যান (DEXA বা DXA - Dual-Energy X-ray Absorptiometry) 📡

সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সাধারণ পরীক্ষা
✅ কোমর ও মেরুদণ্ডের হাড়ের ঘনত্ব মাপতে সাহায্য করে
"T-score""Z-score" দিয়ে হাড়ের অবস্থা নির্ধারণ করা হয়

📊 ফলাফল ব্যাখ্যা:

  • T-score -1.0 বা তার বেশি → স্বাভাবিক হাড়
  • T-score -1.0 থেকে -2.5 → অস্টিওপেনিয়া (Osteopenia, অস্টিওপোরোসিসের প্রাথমিক ধাপ)
  • T-score -2.5 বা তার কম → অস্টিওপোরোসিস (হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেশি)

🩺 ২. পরোক্ষ পরীক্ষা (সহায়ক পরীক্ষা)

📌 Quantitative CT Scan (QCT):

  • এটি তিন মাত্রিক (3D) ইমেজিং ব্যবহার করে হাড়ের ঘনত্ব পরিমাপ করে।
  • এটি DXA-এর তুলনায় কম ব্যবহৃত হয়, তবে নির্ভুল ফলাফল দেয়।

📌 X-ray বা MRI:

  • হাড়ে ফাটল বা ক্ষয় আছে কিনা তা দেখায়।
  • কিন্তু এটি প্রাথমিক পর্যায়ের অস্টিওপোরোসিস শনাক্ত করতে পারে না

📌 Biochemical Marker Test (রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা):

  • ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্যারাথাইরয়েড হরমোন ইত্যাদির মাত্রা নির্ণয় করে।
  • এটি হাড় ক্ষয়ের গতি বোঝার জন্য সহায়ক।

✅ কখন এই পরীক্ষাগুলো করা প্রয়োজন?

৫০ বছরের বেশি বয়স হলে
পরিবারে কারও অস্টিওপোরোসিস থাকলে
বারবার হাড় ভেঙে গেলে বা কোমর-পিঠে ব্যথা থাকলে
মেনোপজের পর নারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ

অস্টিওপোরোসিস রোধে কার্যকরী ব্যায়াম 🏋️‍♀️🦴

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ ও হাড়ের শক্তি বাড়ানোর জন্য ওজন বহনকারী (Weight-Bearing) ব্যায়াম এবং পেশি শক্তিশালী করার (Strength Training) ব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকরী।


✅ ১. ওজন বহনকারী ব্যায়াম (Weight-Bearing Exercise) 🏃‍♀️

এ ধরনের ব্যায়াম হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায় এবং হাড়কে শক্তিশালী করে।

🔹 হাঁটা (Walking) 🚶‍♂️ – প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটলে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে।
🔹 জগিং বা দৌড়ানো (Jogging/Running) 🏃‍♀️ – এটি কোমরের হাড় ও পায়ের হাড় শক্তিশালী করে।
🔹 লাফানো (Jumping Exercises) 🤾 – যেমন স্কিপিং বা জাম্প রোপ, যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
🔹 সিঁড়ি দিয়ে ওঠা (Stair Climbing) 🏢 – সহজ ও কার্যকরী ব্যায়াম।


✅ ২. পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম (Strength Training) 💪

এটি হাড়ের চারপাশের পেশিগুলো শক্তিশালী করে, ফলে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমে।

🔸 ওজন তোলা (Weight Lifting) 🏋️ – ছোট ডাম্বল বা রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড দিয়ে করা যায়।
🔸 স্কোয়াট (Squats) 🏋️‍♂️ – কোমর ও পায়ের হাড় শক্তিশালী করে।
🔸 লাঞ্চ (Lunges) 🦵 – পায়ের হাড় মজবুত করে।


✅ ৩. ভারসাম্য ও নমনীয়তা বাড়ানোর ব্যায়াম (Balance & Flexibility Exercises) 🧘‍♀️

এটি পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমায়।

🔹 যোগব্যায়াম (Yoga) 🧘‍♂️ – শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে ও হাড় মজবুত করে।
🔹 পাইলেটস (Pilates) 🏋️ – কোমর ও মেরুদণ্ডের হাড়ের জন্য উপকারী।
🔹 Tai Chi (তাই চি) 🤸 – এটি ধীরগতির ব্যায়াম, যা ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।


⚠️ কোন ব্যায়াম এড়িয়ে চলা উচিত?

🚫 ভারী ওজন তোলা (Heavy Lifting) - অতিরিক্ত চাপ দিলে হাড় ভেঙে যেতে পারে।
🚫 হঠাৎ ঝুঁকে ওঠা বা মোচড় দেওয়া (Twisting Movements)।
🚫 খুব বেশি উচ্চতাসম্পন্ন জাম্পিং বা কঠোর ব্যায়াম।


💡 সঠিক ব্যায়ামের নিয়ম:

✅ সপ্তাহে ৪-৫ দিন ব্যায়াম করুন
✅ প্রতিটি ব্যায়াম ১৫-৩০ মিনিট ধরে করুন
✅ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম বেছে নিন।



                ডা: মো: আহাদ হোসেন 

এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি, এফআইপিএস (ইন্ডিয়া)

        কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান

        কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। 

    চেম্বার: ইবনে সিনা ডায়াগনোস্টিক ও 

    কনসালটেশন সেন্টার, লালবাগ, ঢাকা। 


১৭ ফেব, ২০২৫

Disc herniation-ডিস্ক হার্নিয়েশন


ডিস্ক হার্নিয়েশন কি? 

ডিস্কহেরনিয়েটেড (Disc Herniated ) হল এমন একটি অবস্থা যেখানে স্পাইন (মেরুদণ্ড) এর মধ্যে থাকা এক বা একাধিক ডিস্ক (ডিস্ক হল মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝে থাকা রাবারি রিংয়ের মতো পদার্থ যা মেরুদণ্ডের মধ্যে শক শোষণ করে) জায়গা থেকে সরে গিয়ে অথবা ছিঁড়ে গিয়ে নার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

লক্ষণ (Symptoms):

  1. ব্যথা (Pain):

    • কোমরে বা গলা ও ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
    • নিতম্ব বা পা (লেগ) বা হাতেও ব্যথা হতে পারে, বিশেষ করে যদি স্নায়ুতে চাপ পড়ে।
  2. শক্তি হ্রাস বা দুর্বলতা (Weakness):

    • পা বা হাতের শক্তি কমে যেতে পারে।
    • চলাফেরা করতে সমস্যা হতে পারে, বা ভারী কিছু তুলতে সমস্যা হতে পারে।
  3. অস্বস্তি বা সোজা দাঁড়াতে সমস্যা (Numbness or Tingling):

    • শরীরের বিশেষ কিছু অংশে অস্বস্তি বা ঝাঁকুনির অনুভূতি (টিংলিং) হতে পারে, যেমন পায়ে বা হাতে।
  4. মোচড় বা পেশির যন্ত্রণার অনুভূতি (Muscle Spasms or Stiffness):

    • পেশি মোচড়ানো বা শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।
  5. অনিয়মিত চলাফেরা (Loss of Coordination):

    • কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের চাপের কারণে চালানোর সমস্যা বা অস্থিরতা অনুভূত হতে পারে।

ডিস্ক হার্নিয়েশন কাকে বলে?

আমাদের শিরদাঁড়া কশেরোকা নামে অনেকগুলো হাড় দিয়ে তৈরি যেগুলো একটার উপর আরেকটা সাজানো থাকে । দুই কশেরুকার মাঝখানে থাকে জেলির মত বস্তু দিয়ে তৈরি গোলাকার চাকরির মত একটি অংশ বলা হয় বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শুকিয়ে যেতে থাকে এবং জেলির বাইরের লেয়ারটিও বয়সের সাথে সাথে দুর্বল হতে থাকে। ডিস্কগুলোকে জায়গার মধ্যে ধরে রাখে লিগামের নামের স্ট্রাকচার পেছনের লিগামেন্ট খানিকটা দুর্বল বিভিন্ন কারনে ডিক্সের ভেতরে প্রেসার বৃদ্ধি পেতে থাকলে একসময় ডিস্কের ভেতরে বয়সের দুর্বল হয়ে যাওয়া বহিরাবরণ ভেদ করে বের হয়ে যায় সাধারণত পেছনের দিক দিয়ে ওই যে বলেছিলাম পেছনের সাপোর্টটা দুর্বল । হাই এটি হলো আমাদের আলোচ্য-Disc herniation.
 

ডিস্ক হার্নিয়েশন (Disc Herniation) এমন একটি শারীরিক সমস্যা যা সাধারণত মেরুদণ্ডের ডিস্কের একটি অংশ তার সাধারণ অবস্থান থেকে সরে গিয়ে মেরুদণ্ডের স্নায়ুকে চাপ সৃষ্টি করে। এটি ব্যথা, অস্বস্তি, বা স্নায়ু সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

ডিস্ক হার্নিয়েশন সাধারণত নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়:

  1. বয়স ৩০-৫০ এর মধ্যে: ৩০ বছরের পর থেকে মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলি আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হতে শুরু করে, যার ফলে ডিস্ক হার্নিয়েশন হতে পারে।

  2. অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ওজন বহনকারী: যারা ভারী বস্তু উত্তোলন বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের মধ্যে ডিস্ক হার্নিয়েশন হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

  3. দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকা বা খারাপ অবস্থানে শোয়া: যারা দীর্ঘ সময় ধরে ভুলভাবে বসে বা শোয়ে থাকেন (যেমন ভুলভাবে ডেস্কে কাজ করা বা অস্বস্তিকর শোয়ার পজিশনে শোয়া), তাদের ডিস্ক হার্নিয়েশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  4. ধূমপানকারী: ধূমপান মেরুদণ্ডের ডিস্কের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এবং এর ফলে হার্নিয়েশন হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

  5. অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন ডিস্কের উপর চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা হার্নিয়েশন ঘটাতে পারে।

  6. জেনেটিক বা পারিবারিক ইতিহাস: যদি আপনার পরিবারের কারও ডিস্ক হার্নিয়েশন থাকে, তবে আপনারও এ সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

        Disc herniation উপসর্গ কি কি ?

    ডিস্ক হার্নিয়েশন (Disc Herniation) একটি অবস্থা যেখানে মেরুদণ্ডের (spine) মধ্যে থাকা ডিস্কের অংশ     বাইরে সরে যায় বা ফেটে যায়। এটি সাধারণত মেরুদণ্ডের স্নায়ু বা রুটগুলির উপর চাপ তৈরি করতে         পারে, যার ফলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। এর কিছু প্রধান উপসর্গ হল:

  1. পিঠের ব্যথা: পিঠে বা কোমরে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে, বিশেষ করে যখন শরীরের অবস্থান পরিবর্তন হয় বা ভারী কিছু উত্তোলন করা হয়।

  2. তীব্র বা ঝিঁঝিঁ ধরনের ব্যথা: হার্নিয়েটেড ডিস্কের কারণে স্নায়ুতে চাপ পড়লে, ব্যথা সাধারণত পা বা বাহুর দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

  3. শক্তি হ্রাস: আক্রান্ত অংশে পেশীর শক্তি কমে যেতে পারে এবং সেই কারণে শরীরের কিছু অংশ দুর্বল হতে পারে।

  4. অস্বস্তি বা অসাড়তা (Numbness): শরীরের কিছু অংশে অস্বস্তি বা অসাড়তা অনুভূত হতে পারে, বিশেষ করে পা বা বাহুর মধ্যে।

  5. গতি সীমাবদ্ধতা: ডিস্ক হার্নিয়েশন থেকে পিঠ বা মেরুদণ্ডে ব্যথার কারণে চলাফেরায় অসুবিধা হতে পারে।

  6. মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা: কখনও কখনও ডিস্কের সরে যাওয়া স্নায়ুতে চাপ তৈরি করে যা ভারসাম্যহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।

>> চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা- 

চিকিৎসা নির্ভর করে অসুস্থতার ধরন  I severity এর উপর যেমন- যদি Local বা Mechanical Pain হয়, তাহলে চিকিৎসা হয় সাধারণত কনজারভেটিভ অর্থাৎ অপারেশন ছাড়া তাকে বিশ্রামে থাকার উপদেশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা লাঘবের জন্য ঔষধ দেওয়া হয়। ফিজিওথেরাপি শুরু করতে হয় acute stage পার হবার পর। 

এই সকল কিছুর পাশাপাশি দৈনিক জীবনযাত্রায় কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে-

** খুব শক্ত  অথবা খুব নরম বা শুলে ডুবে যায় অর্থাৎ স্টেজে বিছানায় শোবেন না অনেকে ভুল উপদেশ ফলো করে খাটের শুধু কাঠের উপরে কিংবা শক্ত করে শুয়ে থাকেন এটা ভুল ও ক্ষতিকর। আমাদের নানি দাদির যুগ থেকে যেমনটি চলে আসছে সেই জাজিমের উপর দশক দেওয়া বিছানায় শ্রম তবে ভালো ব্রান্ডের ভালোম অল্টারনেটিভ হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। 

** ঘাড়ের নিচে একটা মাঝারি উচ্চতার নরম বালিশ নিবেন।

** চিৎ হয়ে সবার সময় হাঁটুর নিচে বালিশ অথবা কুশন রাখবেন পাশ ফিরে শোবার বেলায় দুই হাঁটুর মাঝে এবং উপরের হাতও বুকের মাঝে বালিশ নিবেন ।

** বিছানায় উঠে বসতে গেলে যে কোন একটি কাত হয় হাতের উপর ভর করে উঠে নিবেন নিচে বসবেন না ।

**শেয়ার বাটুলে বসুন চেয়ারে কুশন দিয়ে সোজা হয়ে বসবেন ।

** একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করতে হলে প্রতি তিরিশ মিনিট পর পর উঠে দাঁড়ান পাঁচ মিনিট হাঁটাচলা করে নিন কম্পিউটারে কাজ করার ক্ষেত্রে মনিটর রাখুন আই লেভেলে ।

** পিঠ বা কোমর বাকিয়ে বা ঝুঁকে কোন কাজ করবেন না। 

** ভারী জিনিস তুলতে হলে হাঁটু মুড়ে বসুন, বস্তুটিকে দুহাত দিয়ে শরীরের কাছে ধরুন, এবার পিঠ সোজা রেখে বস্তুটিকে নিয়ে উঠে দাঁড়ান। 

** ভ্রমণের সময় ব্যবহার করতে পারেন Lumber Corset নামক বেল্ট টাইপের অর্থোসিস। 

আসুন আমরা যত্ন ও সচেতনতার সাথে ডিস্ক এর সমস্যাসহ শিরদাঁড়ায় সকল অসুখকে মোকাবেলা করি। 


ডা: ফরিদা খাতুন ছবি। 
বাত ব্যথা, আর্থ্রাইটিস, নিউরোলজিক্যাল ডিজিজ
রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ
এম বি বি এস, বি সিএস , এফসিপিএস
( ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন)
সিসিডি (বারডেম), সহযোগী অধ্যাপক
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস এন্ড হাসপাতাল ঢাকা। 




১৬ ফেব, ২০২৫

মৃগী রোগ কি -What is epilepsy


 মৃগী রোগ (Epilepsy) হলো একটি স্নায়ুবিক (নিউরোলজিকাল) রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ক্রিয়ার কারণে বারবার খিঁচুনি (সিজার) হয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা, যা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক আন্দোলন, অনুভূতির পরিবর্তন বা আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।














মৃগী রোগের কারণ: -

✅ জেনেটিক প্রভাব – পরিবারে কারও মৃগী থাকলে ঝুঁকি বেশি

✅ মস্তিষ্কের আঘাত – দুর্ঘটনা, স্ট্রোক বা টিউমারের কারণে 
✅ সংক্রমণ – মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস বা স্নায়ুবিক সংক্রমণ 
✅ প্রসবকালীন জটিলতা – শিশুর অক্সিজেনের অভাব বা জন্মগত সমস্যা
✅ অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা মাদক সেবন মৃগী রোগের লক্ষণ: 🔹 খিঁচুনি (সিজার) – পুরো শরীর বা নির্দিষ্ট অংশে কম্পন 🔹 হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়া 🔹 দৃষ্টিভ্রম বা অস্বাভাবিক অনুভূতি 🔹 হঠাৎ ভয় বা বিভ্রান্তি অনুভব করা 🔹 স্বাভাবিক আচরণ পরিবর্তন বা স্মৃতিভ্রংশ চিকিৎসা:
✅ ওষুধ সেবন – অ্যান্টি-এপিলেপটিক ড্রাগ (AEDs)

✅ লাইফস্টাইল পরিবর্তন – পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো 
✅ সার্জারি – যখন ওষুধে কাজ হয় না 
✅ ডায়েট পরিবর্তন – যেমন কিটোজেনিক ডায়েট আপনি যদি মৃগী রোগ সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত জানতে চান বা কারও উপসর্গ দেখেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 😊 মৃগী রোগ, বা এপিলেপসি, হলো একটি স্নায়বিক ব্যাধি যেখানে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে বারবার খিঁচুনি হয়। এটি শিশু থেকে বৃদ্ধ, যে কারো হতে পারে এবং বিভিন্ন কারণের ফলে উদ্ভূত হতে পারে, যেমন জেনেটিক সমস্যা, মাথার আঘাত, মস্তিষ্কের সংক্রমণ বা অন্যান্য মেডিক্যাল অবস্থা।


মৃগী (Epilepsy) একটি দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক ব্যাধি, যা সম্পূর্ণ ভালো হওয়া নির্ভর করে ব্যক্তির অবস্থা, কারণ ও চিকিৎসার উপর।  

### **মৃগী কি সম্পূর্ণ ভালো হয়?**  

- **নিয়ন্ত্রিত থাকতে পারে:** অনেক রোগী উপযুক্ত ওষুধ এবং জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় খিঁচুনি মুক্ত থাকতে পারেন।  
- **চিকিৎসার সাড়া:** প্রায় ৭০% রোগীantiepileptic drugs (AEDs) সঠিকভাবে গ্রহণ করলে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।  
- **সার্জারি:** কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে, যদি ওষুধ কাজ না করে, তবে অস্ত্রোপচার (Epilepsy Surgery) একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।  
- **শিশুদের ক্ষেত্রে:** কিছু শিশু যারা ছোটবেলায় মৃগী আক্রান্ত হয়, তারা বড় হয়ে সুস্থ হতে পারে।  

### **কি করলে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?**  
✔ **নিয়মিত ওষুধ খাওয়া**  
✔ **পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস কমানো**  
✔ **স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ**  
✔ **অ্যালকোহল ও ধূমপান এড়ানো**  
✔ **চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া**  

### **চূড়ান্তভাবে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা**  
- অনেকের ক্ষেত্রে এটি আজীবন ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত রাখতে হয়।  
- কিছু রোগী ২-৫ বছর ওষুধ সেবনের পর খিঁচুনি মুক্ত থাকলে ধীরে ধীরে ওষুধ বন্ধ করা যায়।  
- সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব কি না, তা নির্ভর করে মৃগীর ধরন ও ব্যক্তিগত অবস্থার উপর।  


## মৃগী রোগ কি বংশগত হতে পারে?

হ্যাঁ, মৃগী (Epilepsy) আংশিকভাবে বংশগত হতে পারে, তবে এটি নির্ভর করে মৃগীর ধরন এবং নির্দিষ্ট জিনগত (genetic) কারণের উপর।
মৃগী কি বংশগত?
🔹 জিনগত সংযোগ:
কিছু নির্দিষ্ট ধরনের মৃগী (যেমন: জুভেনাইল মায়োক্লোনিক এপিলেপসি, অ্যাবসেন্স এপিলেপসি) বংশগত কারণে হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যদি বাবা-মা বা পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের মৃগী থাকে, তবে সন্তানের ঝুঁকি কিছুটা বেশি হতে পারে।
🔹 বংশগত ঝুঁকি কতটা?
সাধারণ মৃগী রোগীর সন্তানের ঝুঁকি: প্রায় ২-৫%
যদি বাবা-মা উভয়েরই মৃগী থাকে: ঝুঁকি কিছুটা বেশি হতে পারে, তবে নিশ্চিত নয়।
জিনগত কারণে হওয়া মৃগীর ক্ষেত্রে: ঝুঁকি ১০-১৫% পর্যন্ত হতে পারে।
🔹 বংশগত ছাড়াও অন্যান্য কারণ:
মস্তিষ্কের আঘাত বা ইনফেকশন
অক্সিজেন স্বল্পতা (জন্মের সময়)
স্ট্রোক বা টিউমার
মাদক বা অ্যালকোহল আসক্তি
মৃগী থাকলে কি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিন্তার কারণ?
👉 বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃগী সরাসরি বংশগত নয়, বরং পরিবেশগত ও নিউরোলজিক্যাল কারণে হয়।
👉 চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, এবং অনেকে সুস্থ জীবনযাপন করেন।আপনার পরিবারে কেউ মৃগী আক্রান্ত আছেন, নাকি ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে জানতে চাচ্ছেন? 😊

## মৃগী রোগে খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত?

মৃগী রোগীদের খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিছু খাবার খিঁচুনির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, আবার কিছু খাবার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
✅ মৃগী রোগীদের জন্য উপকারী খাদ্য
✔ কেটোজেনিক ডায়েট (Ketogenic Diet)
উচ্চ ফ্যাট এবং কম কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার
বিশেষ করে শিশুদের জন্য কার্যকর
উদাহরণ: ডিম, বাদাম, চিজ, মাখন, অ্যাভোকাডো, ফ্যাটি ফিশ (যেমন স্যামন)
✔ লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ডায়েট (Low GI Diet)
রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক
উদাহরণ: বাদাম, বীজ, ডাল, শাকসবজি, ব্রাউন রাইস
✔ ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ খাবার
ভিটামিন বি৬: কলা, গাজর, আলু, স্যালমন
ম্যাগনেসিয়াম: পালং শাক, কাজুবাদাম, অ্যাভোকাডো
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: মাছ, চিয়া সিড, আখরোট
❌ যে খাবার এড়ানো উচিত
🚫 অতিরিক্ত চিনি ও কার্বোহাইড্রেট: সফট ড্রিংকস, মিষ্টি খাবার
🚫 ক্যাফেইন: অতিরিক্ত চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক
🚫 অ্যালকোহল: মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে
🚫 প্রসেসড ফুড: ফাস্ট ফুড, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবার
💡 বিশেষ পরামর্শ
🔹 হঠাৎ করে কোনো ডায়েট পরিবর্তন না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত
🔹 পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার
🔹 খাবার বেঠিক সময়ে না খাওয়া ভালো
🔹 অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ানো উচিতআপনি কি নির্দিষ্ট কোনো ডায়েট ফলো করতে চান, নাকি সাধারণভাবে জানতে চাচ্ছেন? 😊


## মৃগী রোগের জন্য কোন ডাক্তার দেখানো উচিত?

মৃগী (Epilepsy) রোগের চিকিৎসার জন্য নিউরোলজিস্ট (Neurologist) বা মৃগী বিশেষজ্ঞ (Epileptologist) এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
👉 কোন ডাক্তার দেখানো উচিত?
1️⃣ নিউরোলজিস্ট (Neurologist) – মস্তিষ্ক ও স্নায়বিক সমস্যার বিশেষজ্ঞ।
2️⃣ এপিলেপটোলজিস্ট (Epileptologist) – মৃগী রোগের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিউরোলজিস্ট।
3️⃣ নিউরোসার্জন (Neurosurgeon) – যদি অস্ত্রোপচারের (Epilepsy Surgery) প্রয়োজন হয়।
4️⃣ শিশু নিউরোলজিস্ট (Pediatric Neurologist) – যদি শিশুদের মৃগী হয়।
📌 কখন ডাক্তার দেখানো উচিত?
✔ প্রথমবার খিঁচুনি হলে
✔ যদি বারবার খিঁচুনি হয়
✔ ওষুধ খেয়েও নিয়ন্ত্রণে না আসে
✔ আচরণ বা স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন দেখা দিলে
✔ মাথায় আঘাতের পর খিঁচুনি হলে
🏥 কোথায় ডাক্তার পাবেন?
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগ
বিশেষায়িত স্নায়ু হাসপাতাল (যেমন: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স, বাংলাদেশ)
প্রাইভেট চেম্বারে বিশেষজ্ঞ নিউরোলজিস্ট
আপনি কি কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ডাক্তার খুঁজছেন? আমি সাহায্য করতে পারি! 😊

## মৃগী রোগ কি মানসিক রোগ?

না, মৃগী (Epilepsy) মানসিক রোগ নয়, এটি একটি স্নায়বিক (Neurological) রোগ, যা মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ প্রবাহের কারণে ঘটে।
🧠 কেন মৃগী মানসিক রোগ নয়?
✅ স্নায়বিক সমস্যা: মৃগী মস্তিষ্কের নিউরনের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের ফলে হয়, যা খিঁচুনির কারণ হতে পারে।
✅ মানসিক রোগ আলাদা: মানসিক রোগ মূলত আবেগ, চিন্তা বা আচরণগত সমস্যার সাথে সম্পর্কিত, কিন্তু মৃগী মস্তিষ্কের শারীরবৃত্তীয় (physiological) সমস্যা।
✅ বুদ্ধিমত্তার ওপর প্রভাব ফেলে না: বেশিরভাগ মৃগী রোগীর মানসিক ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে।
🧩 তবে কিছু সম্পর্ক আছে!
যদিও মৃগী মানসিক রোগ নয়, কিন্তু কিছু মানসিক সমস্যা (যেমন: উদ্বেগ, বিষণ্নতা, স্মৃতিভ্রংশ) হতে পারে, কারণ—
🔹 দীর্ঘমেয়াদী মৃগীর প্রভাব
🔹 ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়া
🔹 সামাজিক বৈষম্য ও মানসিক চাপ
🩺 চিকিৎসা কী?
🔸 নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন
🔸 ওষুধ (antiepileptic drugs - AEDs) সঠিকভাবে গ্রহণ করুন
🔸 সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
🔸 যদি মানসিক সমস্যা দেখা দেয়, সাইকোলজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিনআপনার বা পরিচিত কারও জন্য জানার চেষ্টা করছেন? 😊


ডা: প্রকাশ মল্লিক
৭৯ মহাত্ম গান্ধী রোড
কলকাতা-৯ (কলেজ স্ট্রিট)
শাখা: ৮৮/১, দমদম রোড (দমদম কুইন)
বিল্ডিং, দোতলায়, কলকাতা-৩০।