ডায়াবেটিস-Diabetes
১৪ ই নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস
সুস্বাস্থ্যই হোক আমাদের অঙ্গীকার , নীরোগ শরীর, ঝকঝকে ত্বক আর সতেজ মন কে না চায়? মানুষমাত্রই সুস্থ সুন্দর জীবন চায়। কিন্তু কথা হলো, এ জন্য আমরা কতটুকু সচেষ্ট? জীবনের স্ট্রেস, কাজের চাপ, ঘুম থেকে উঠে অফিসের প্রস্তিুত, চেয়ার-টেবিলে কাজ, কাজ শেষে ঘরে ফেরা, খেয়েদের টিভি দেখে বা নেট ঘেঁটে সময় পার, কম ঘুম দেরিতে ওঠা, খেতে বসলে বাছবিচার না করে অধিক ভোজন, পরিশ্রমহীন আয়েশি জীবন। এভাবেই অনিয়মিত জীবনযাত্রার ফলে শরীর রোগব্যাধি বাসা বাধেঁ। ক্রমাগত ওজন বাড়ার সাথে সাথে দেখা দেয় হাই ব্লাডপ্রেসার,
ডায়াবেটিকস, হার্টের সমস্যা ও নানাবিধ অসুখ বিসুখ।
ডায়াবেটিস একবার শরীরে বাসা বাঁধলে তা আর সারে না। অর্থাৎ রোগীকে এই রোগ নিয়েই চলতে হয় আজীবন। ডায়াবেটিস সম্পূর্ন ভালো হয় না। কিন্তু আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো এ রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিকস দিবস। এ দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো‘ ডায়াবেটিকস’: “সুস্বাস্থ্যই হোক আমাদের অঙ্গীকার” । প্রতিপাদ্যটি যথোপযুক্ত ও সময় উপযোগী হয়েছে। কেননা, ডায়াবেটিস হচ্ছে ক্রম অগ্রসরমান একটি রোগ। বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে তিনজনের ডায়াবেটিস ধরা পড়ছে।এই রোগ ও রোগীর সংখ্যা ভয়াবহ আকারে বেড়ে যাচ্ছে। তাই সচেতনতা সুন্দর জীবন যাপন করা যায়, কিভাবে কতটুকু স্বাস্থ্য সতর্কতা জরুরি, ওষুধ ইনসুলিনের মাত্রা কিরূপ হবে, ডায়াবেটিস রোগী কী খাবে- কী খাবে না, রোগীর সার্বিক জীবনযাত্রা কেমন হবে এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিপাদ্যের আলোকেই থাকছে লেথ ম্যাগাজিনের এবারের প্রচ্ছদ রচনা। প্রতিবেদনটি লিখেছেন স্বানামধন্য ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডাঃ সুলতানা মারুফা শেফিন। প্রিয় পাঠক, আশা করি লেখাটি আপনাদের উপকারে আসবে। বিশষত যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য তো বটেই।
এম.বি.বি.এস,এম ডি(এন্ডোক্রাইনোলজি) ।
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান।
ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
## গর্ভকালীন ডায়াবেটিস-Gestational diabetes
ডায়াবেটিসের মহিলা রোগী যখন মা হতে চাইবন, সন্তান ধারণের সময় ও দুগ্ধদানের সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিম দিয়েই চিকিৎসা করতে হবে। এর জন্য র্পূবপ্রস্তুতি ও ডায়াবেটিস শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। (Pre Conception Care) গর্ভধারনের জন্য ও দুগ্ধপানরত শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। পৃথিবীতে অসুখ দুই রকমের। এক ধরনের অসুখ চিকিৎসায় সম্পূর্ন ভালো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এমন একটি রোগ হলো ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস একবার হলে আর ভালো হয় না। কিন্তু রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আর এর মাধ্যমেই ডায়াবেটিস-জনিত চক্ষুরোগ, কিডনি রোগ. স্নায়ুরোগ, হৃদরোগ ও পায়ের ক্ষতরোগ থেকে নিরাপদ থাকা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে না থাকলে এসব রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
## আসুন জেনে নিই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আছে মানে কী ?
যাদের ডায়াবেটিস হয় তাদেরই উচ্চ রক্তচাপ (ব্লাডপ্রেসার) ও রক্তের কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই যাদের এগুলো ভালো আছে, তাদের উচিত বছরে একবার পরীক্ষা করা। আর যাদের এগুলো বেশি, সেগুলোকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে নতুবা হৃদরোগ, স্টোক, কিডনি রোগ ও চক্ষুরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না।
রক্তচাপ ( ব্লাডপ্রেসার) ১৩০/৮০ মি মি - এর নিচে রাখতে হবে। রক্তের কোলেস্টেরল চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। রক্তে গ্লকোজের মাত্রা ৪-এর নিচে নামানো যাবে না। নিয়মিত রক্তের গ্লকোজ পরীক্ষা করতে হবে। সপ্তাহে একদিন চারবেলা রক্তের গ্লকোজ পরীক্ষা করুন। গর্ভবতী মায়েরা সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চারবেলা রক্তের গ্লকোজ পরীক্ষা করবেন।
## ডায়াবেটিস হলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়-
ইনসুলিন একটি হরমোন। এটি মানুষের পেটের ভেতর অগ্ন্যাশয় নামক একটি অঙ্গ থেকে তৈরি হয়ে রক্তে চলে আসে। আমরা যে খাবার খাই তার শর্করাজাতীয় অংশ ভেঙে গ্লকোজ তৈরি করে, এটিও রক্তে চলে আসে। ইনসুলিন হরমোনের কাজ হলো রক্তের গ্লকোজ রক্ত থেকে মাংসপেশিতে ঢুকায় এবং গ্লকোজ ভেঙে শক্তি তৈরি হয়। যে কোনো কারণেই হোক ইনসুলিন কম বা একবারেই তৈরি না হলে অথবা ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে গ্লকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন আমরা বলি ডায়াবেটিস হয়েছে।
>> প্রতিদিন ঠিক নিয়ম মেনে খাবার গ্রহন করুন। ডায়াবেটিস খাবার বলে কোনা খাবার নেই। সব খাবারই পরিমিত খেতে পারবেন, যা একজন সুস্থ মানুষের প্রয়োজন। শুধু চিনি, গুড়, মধু ও গ্লুকোজ সহজেই রক্তে গ্লকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বলে এগুলো খেলে রক্তের গ্লকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না।
>> অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলুন।
>> বছরে অন্তত একবার চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে চোখ দেখাবেন ও Fundoscopy পরীক্ষা করাবেন।
>> ডায়াবেটিকস রোগী গর্ভধারণের আগে ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে। নতুবা গর্ভস্থ শিশু ও মায়ের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।
>> গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের বেশির ভাগ রোগীর রক্তের গ্লকোজ খাবারের নিময় মেনে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব । যাদের সম্ভব হয় না, তাদের ইনসুলিন নিতে হয় । সন্তান হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর একবার চিকিৎকের পরামর্শ নিতে হবে।
## ডায়াবেটিকস রোগীরা যে ফলগুলো খেতে পারবেন না-## Fruits that diabetics cannot eat.
## ডায়াবেটিকস রোগীরা যে ফলগুলো খেতে পারবেন ## Fruits that diabetics eat.
ডায়াবেটিকস কেন হয়-Why do diabetics occur
>>মানুষের শরীরে ইনসুলিন হরমোন কমে গেলে বা কাজ না করলে ডায়াবেটিকস হয়।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণের টার্গেট-
ডায়াবেটিকস রোগীর পায়ের যত্ন-
ডায়াবেটিকস-জনিত স্নায়ুরোগ ও রক্তনালীর রোগের কারণে পায়ের অনুভুতি শক্তি ও রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং পায়ে আঘাত লেদে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এর ফলে দ্রুত পচনশীল ঘা হয়ে পা কেটে ফেলতে হতে পারে। সক ডায়াবেটিস রোগীকে তাই পায়ের বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
ডায়াবেটিকস রোগীর সতর্কতা-
যেসব ডায়াবেটিস রোগী রক্তের গ্লকোজ নিয়ন্ত্রনের জন্য ইনসুলিনের ওপর নিভরশীল তারা কখনোই অযাচিত উপদেশ বা প্রচারণায় হঠাৎ করে ইনসুলিন বন্ধ করবেন না। সে ক্ষেত্রে এসিড তৈরি ও রক্তের লবনের অসমতা তৈরি হয়ে আপনাকে খুব দ্রুত মুখে ঠেলে দিতে পারে।
ডায়াবেটিকস রোগী অসুস্থ হলে কী করবেন-What to do if a diabetic patient is sick:
ডায়াবেটিকস রোগী অন্য যেকোনো অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে যেমন- জ্বর, কাশি, পাতলা পায়খানা, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গেলে আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে ও কমাতে হতে পারে। তেমনি মাত্র বেশি হলে রক্তের গ্লকোজ ৪ মি.লি মোলের নিচে নেমে গেলে সাথে সাথে মিষ্টি কিছু খেতে হবে। না খেতে পারলে শিরায় গ্লকোজ নিতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন। সুস্থ জীবন যাপন করুন।
বাংলাদেশে ডায়াবেটিকস রোগীর পরিসংখ্যান-Statistics of diabetic patients in Bangladesh
বিশ্বজুড়েই ডায়াবেটিকস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে একজন ডায়াবেটিকসে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে- ডায়াবেটিকস আছে এমন রোগীদের অন্তত ৫০ শতাংশ জানেন না তাদের ডায়াবেটিস আছে। এ কারনে ডায়াবেটিক সম্পর্কে সবার সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
## ডায়াবেটিকস ও গর্ভধারন-Diabetes and pregnancy:
>> তিন ভাগে বিভক্ত-
১। গর্ভধারনের প্রস্তুতি-
২। গর্ভকালীন চিকিৎসা ও শিশু জম্মদান-
৩। দুধ পান ও পরবর্তী চিকিৎসা-
১। প্রি-কনসেপশন কেয়ার/গর্ভধারনের প্রস্তুতি (নারী ও পরুষ) :-
ক. ডায়াবেটিকস নারী।
খ. যারা গর্ভকালীন ডায়াবেটিকস হবার ঝুকিতে আছে।
>> যাদের ডাবেটিস আছে সে সব নারীর গর্ভধারনের পূর্বেই ডায়াসেটিকস নিয়ন্ত্রন করতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রন সঠিক খাদ্যাভাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে ইনসুলিন নিতে হবে। রক্তের গ্লকোজের মাত্রা গর্ভধারনের নিবাপদ মাত্রায় এন গর্ভধারনের চেষ্টা করতে হবে। এসময়ে ডায়াবেটিকস বা কোনো ধরনের ডায়াবেটিকস জনিত জটিলতায় ভুগছেন কিনা তা নির্ণয় করতে হবে।
>>যাদের ডায়াবেটিকস হবার ঝুকি আছে সেসব নারী গর্ভধারন করতে চাইলে গর্ভধারনের পূর্বেই ডায়াবেটিকস আছে কিনা জেনে নিতে হবে।



0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন