What is dengue- ডেঙ্গু কি
ক্রমশ বাড়ছে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করুন এখনই-Dengue is increasing, prevent it now
বাংলাদেশ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, এই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এই প্রতিবেদন প্রস্তুতকালীন ১৮ অক্টোবর -২০২৪ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৪৭ হাজার ৪৬১ জন তন্মধ্যে মৃত্যুবরন করেছেন ২৩৭ জন (সূত্র স্বাস্থ্য অধিদফতর)।
ঢাকা ছাড়াও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে অন্যান্য জেলায়ও। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে এখনই ডেঙ্গুে রোগীর উপচে পড়া ভিড়। চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিদিন ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দেখা যায় গত কয়েক মাসের তুলনায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর ৫৫ শতাংশই ঢাকার বাইরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে সে বিষয়ে আরো দুই মাস আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
এখনও যদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে, অক্টোবর ও নভেম্বর জুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি বছরই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা এর দায়িত্বে রয়েছেন তারা এটাকে চাকরি হিসেবে দেখছে, সেবা ও ভালোবাসার আন্তরিকতারপূর্ন সহাবস্থানের অনুপস্থিতিও ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
একইসাথে রোগীর অসছেতনাতা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগরি যথাযথ চিকিৎসা না করেই অন্য হাসপাতালে রেফার করা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের দুর্বলতা প্রতি বছরই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপশক সিনড্রোম নিয়ে বেশির ভাদ রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে । প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, তাহলে ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুই সিটি কর্পোরেশন কী পদক্ষেপ নিয়েছে ? গত বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এ বছর যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা পরিস্থিতি সামলাতে আসলে কতটুকু ফলপ্রসূ হবে।
>> ডেঙ্গুর বিস্তার হয় যেভাবে-How dengue spreads
বর্ষ ও তার পরবর্তী ১-২ মাস ডেঙ্গু বিস্তারের উপযুক্ত সময়। এ কারণে ডেঙ্গু বিস্তার রোধে আগে থেকেই ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নিধনের যথেষ্ট প্রস্তুতি ও উদ্যোগে নিতে হবে। মশা নিধনের দুইটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন একটি হলো মশার প্রজনন ক্ষেত্রেগুলো ধ্বংস করা অন্যটি হল পূর্ব বয়স্ক মশা মেরে ফেলা। সাধারনত নির্মাণাধীন বাড়ির বিভিন্ন স্থানে পানি ধরে রাখার চৌবাচ্চায়, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ারে, ডিমের খোশায়, নারকেলের খোশায়, এয়ারকুলার/এসি, ফুলের টবে জমা পানিতে এই সব মশা ডিম পাড়ে। তাই এসব ছো খাট জলাধারে পাঁচ দিনের বেশি সময় পানি জমতে দেওয়া যাবে না । বাড়ির আশপাশ সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা একান্ত প্রয়োজন ।
>> ডেঙ্গু সম্পর্কে ভুল ধারণা অনেক-There are many misconceptions about dengue.
কারো কারো ধারণা ডেঙ্গু ছোঁয়াছে রোগ, ডেঙ্গু রোগীকে স্পর্শ করলে বুঝি তা স্পর্শকারীর মধ্যে ছড়িয়ে যাবে- আসল সত্য হলো ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে বা সামাজিকভাবে মেলামেশা করলে কোনো ক্ষতি নেই। তবে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে কোন স্বাভাবিক এডিস মশা কামড় দিলে সেই মশাটিও ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু বাহক হয়ে পড়ে । বলা হচ্ছে ডেঙ্গু হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যাপক মশাবাহিত ভাইরাল ডিজিজ। প্রতি বছর আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় পঞ্চাশ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ। এ সংক্রমনের একটি ভয়ানক রূপ হলো ডেঙ্গু হিমোরেজিক জ্বর - যা এখন ধরা পড়েছে। ডেঙ্গু ভাইরাস মানব দেহে ঢোকার পর রক্ত কণিকার মধ্যে ধীরে ধীরে এর সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। প্রথম দিকে এর লক্ষন বা উপসর্গ দেখা নাও যেতে পারে। দুই থেকে সাত দিনের মতো সময় ভাইরাস সুপ্ত অবস্থার উপর লক্ষণ নির্ভরশীল । সাধারণত রোগে, মাংশপেশী ও হাড়ে ব্যথা, বমি, বমি ভা বা বমি হওয়া, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি উপসর্গের মাধমে। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হতে পারে- এডিস মশাই জেঙ্গুজ্বরের জীবাণু বহন করে। কাজেই বাতাসে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু উড়ে বেড়ানোর সুযোগ নেই। ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু ভাইরাস শিশুর শরীর যেতে পারে না।
>> প্রতিরোধই উত্তম ব্যবস্তা .
ডেঙ্গুজ্বরের যেহেতু কোনো ভ্যাকসিন নেই তাই প্রতিরোধই আসল কাজ। এই জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হওয়া দরকার মশার বংশ বিস্তারের স্থান গুলো নির্মূল করা উচিত বাড়ির বাইরের জলাধারগুলো শুকনো পানিবিহীন রাখুন,ব্যবহার করা না হলে উল্টো করে রাখুন যেন বৃষ্টির পানি না জমে। টবের নিচে যেন পানি জমে না থাকে ফ্রিজের নিচে ট্রেতে জমা পানি ফেলে দিন। পুকুরে মশার লার্ভা থেকো মাছে- যেমন গোল্ড ফিস ছেড়ে দিয়ে লার্ভা নিয়ন্ত্রণ করুন। তবে প্রয়োজন হলে, খুব জ্বর ও গায়ে র্যাশ দেখা দিলে আপনার নিকটস্থ চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
ডা: ফজলুল করিম আজাদ
এমবিবিএস, এমবিত্র (হাসপাতাল প্রশাসন) ইউএসএ
উপস্থাপক, স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার
প্লট: ৪, রোড: ৮-৯, সেক্টর: ১ উত্তরা মডেল
টাউন, ঢাকা, ফোন: ৮৯১৩৯৩৯
www.mcwc.org

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন