ডায়াবেটিস এর সময় গর্ভধারন-Pregnancy during diabetes
ডায়াবেটিস ও গর্ভধারন-
তিন ভাগে বিভক্ত-
১। গর্ভধারনের প্রস্তুতি।
২। গর্ভকালীন চিকিৎসা ও শিশু জন্মদান।
৩। দুধ পান ও পরবর্তী চিকিৎসা।
প্রি-কনসেপশন কেয়ার/ গর্ভধারনের প্রস্তুতি (নারী ও পুরুষ)
১। ডায়াবেটিক নারী।
২। যারা গর্ভকালীন ডায়বেটিকস হবার ঝুঁকিতে আছে যাদের ডায়াবেটিস আছে ।
>>সেসব নারীর গর্ভধারণ এ পূর্বেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ওজন নিয়ন্ত্রণ সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে প্রয়োজনে নিরাপদ
ইনসুলিন নিতে হবে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা গর্ভধারণের নিরাপদ মাত্রায় এনে গর্ভধারণের চেষ্টা করতে হবে এ সময় জটিলতায় ভুগছেন কিনা তা নির্ণয় করতে হবে
>>যাদের ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি আছে সেসব নারী গর্ভধারণ করতে চাইলে গর্ভধারণের পূর্বেই ডায়াবেটিস আছে কিনা জেনে নিতে হবে ।
>>যাদের বয়স ২৫ বছরের বেশি
>>বংশের ডায়াবেটিকস আছে
>>ওজন বেশি মাসিকের সমস্যা
>>পূর্বের গর্ভধারণের সমস্যা বন্ধ্যাত্ব গর্ভপাত হয়েছে।
>> পেটের মধ্যে গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয়েছে অথবা নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
>> অধিক ওজনের নবজাতক জন্মদানকারী নারীর এই সেবার মধ্যে পড়বেন এবং যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।
যতদিন বাচ্চা পেটে থাকবে ও বুকের দুধ পান করবে ততদিন মাকে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম এর পাশাপাশি নিরাপদ ইনসুলিন গ্রহণ করতে হবে । মুখে খাওয়া ঔষধ এসব বাচ্চার জন্য নিরাপদ নয় ইনসুলিন বাসার শরীরে যেতে পারেনা যেসব মায়ের গর্ভধারণের পর ডাইবেটিস প্রথম বারের মত ধরা পড়বে তাদের ডায়াবেটিস কে Gestetional Diabtes বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিকস বলা হয় । যেসব নারী গর্ভধারণের পড়বে স্বাভাবিক ছিলেন কিন্তু গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে আছেন তাদের গর্ভধারণের সাথে সাথেই একবার ডায়াবেটিকস হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করতে হবে প্রথমবার স্বাভাবিক আসলেও পূর্ব গর্ভকালীন সময়ে নিয়মমত তাদেরকে পর্যবেক্ষণ রাখতে হবে যেকোনো সময় গর্ভকালীন ডায়াবেটিকস ধরা পড়লে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মা ও শিশুর সুস্থ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। যাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিকস হয় তাদের পরবর্তীতে স্থায়ী ডায়াবেটিকস আবার ঝুঁকি ৫০% বেড়ে যায় ।
>> অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে গর্ভধারণের সমস্যা বন্ধ্যাত্ব গর্ভপাত হতে পারে ।
>> পেটে পানি বেড়ে বা কমে যেতে পারে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মায়ের ডায়বেটিকস জনিত জটিলতা অসংখ্য জনক বৃদ্ধি পেতে পারে , বিশেষত চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত ও কিডনি রোগ বৃদ্ধি পেতে পারে গর্ভকালীন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
>> গর্ভকালীন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া , Preeclampsia ও Eclampsia এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ।
## গর্ভস্থ শিশুর ঝুঁকি সমূহের মধ্যে-
>> বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হবার সম্ভাবনা থাকে অধিক ওজন অথবা কম ওজনের শিশুর জন্মের ঝুঁকি বেড়ে যায় ।
>> গর্ভধারণের শেষের দিকে হঠাৎ পেটের মধ্যে বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে ।
এ সবই অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এর বিপদ গর্ভকালীন সময়ে সুনয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এসব কিছুর কমিয়ে ফেলাই এই সচেতনতা ও চিকিৎসার লক্ষ্য।
পরিশেষে ডায়াবেটিক মা অন্য গর্ভবতী মায়ের মতই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে শিশুর জন্ম নিতে পারেন যদি তার চিকিৎসক এ ব্যাপারে তাকে ঝুকিমুক্ত মনে করেন বাচ্চা যতদিন বুকের দুধ পান করবে ততদিন মায়ের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনে ইনসুলিন দিতে হবে এসব ধরনের মুখে খাবার ঔষধ বুকের দুধের মাধ্যমে শিশু শরীরে যায় বা দুধ পানকারী শিশুর জন্য নিরাপদ নয় ইনসুলিন বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে যেতে পারে না । যে শিশুর জন্ম হলো শুরু থেকেই তাকে সঠিকভাবে লালন পালন করতে হবে ভবিষ্যতে সেই শিশুর ডায়াবেটিক প্রতিরোধের জন্য ।
বাংলাদেশে ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যাদের প্রায় অর্ধেকই নারী কিন্তু আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশিরভাগ মানুষই জানেন না তাদের ডায়াবেটিকস আছে এমনকি দেশে ১০০ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে ভোগেন । আবার তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই পরবর্তীকালে টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন বাংলাদেশের মতো অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেও এর চিত্র বিরাজ করছেন ।
ডায়াবেটিস রোগীর সার্জারী-
ডায়াবেটিস রোগীর অধিকাংশেরই জীবনে অশ্রু পাচার বা সার্জারির প্রয়োজন পড়ে কিছু অর্শ পাচার ও সার্জারি স্বাভাবিকভাবে অন্য রোগীর মত আর কিছু সার্জারির ডায়াবেটিকস রোগের জটিলতার কারণে করতে হয় । সার্জারির পূর্বে কাঙ্ক্ষিত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ইনসুলিন সহ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে ।
HbA1c ৭ % এর নিচে রেখে পূর্ব পরিকল্পিত সারদাধিক করতে হবে হঠাৎ জরুরি সার্জারি করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এন্ড্রোক্রাইনোলজিস্ট এর তত্ত্বাবধানে।
ডায়াবেটিকস সাথে বসবাস-
ডায়াবেটিস চিকিৎসা ও প্রতিরোধের জন্য এ রোগ সম্পর্কে জানতে হবে। প্রাথমিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল ডাইবেটিকস ফেডারেশন (IFD) এবং WHO প্রতিবছর ১৪ই নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন করে । ১৯৯১ সাল থেকে এটি পালিত হয়ে আসছে এছাড়া ১৪ই নভেম্বর ইনসুলিন ঔষধটির আবিষ্কারক ফেডরিক বেনটিংয়ের জন্মদিন। ১৯২২ সালে তিনি ইনসুলিন আবিষ্কার করে চার্লস ব্যান নেটে সাথে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ইনসুলিন হলো ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় সবচেয়ে পুরনো কার্যকর ও শক্তিশালী ঔষধ। ডায়াবেটিকস রোগীদের নিয়ে এ সকল কাজ করতে হবে পরিবারের ডায়াবেটিক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং যারা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের জন্য পারিবারিক সহযোগিতা বন্ধন তৈরি করা । ডায়াবেটিকস প্রতিরোধ সেবা চিকিৎসা ও শিক্ষা নিয়ে পরিবারের ভূমিকা সচেতন করা। এসব কাজের মধ্যে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত এর মাধ্যমে যে কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বারে বা সমাধানের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব ।
উপসংহার:-
সম্প্রতি ধারণা করা হচ্ছে প্রতি দুইজনে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিন্তু এখনো তা ধরা পড়েনি পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হয় তাই এর লক্ষণ ঝুঁকি এবং কিভাবে ডায়াবেটিস থাকলে তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে সেই পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে । এ সম্পর্কিত জটিলতা পরিহার করা সম্ভব সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করাই লক্ষ্য এভাবেই ডায়াবেটিস চিকিৎসা জনিত খরচ ও ভোগান্তি বাংলাদেশের কমানো সম্ভব। এই রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা তাহলে সহজ হবে ডায়াবেটিসের সাথে বসবাস ।
ডাক্তার সুলতানা মারুফা শেফিন
এমবিবিএস এমডি, এফ সি পি এস
হরমোন ডায়াবেটিক্স ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রদান
চেম্বার ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক এন্ড ইমেজিং সেন্টার বাড়ি
৪৮ রোড ৯/১ ধানমন্ডি ঢাকা

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন